বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা এখনো অব্যাহত আছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) চলতি বছরের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে টানা নবমবারের মতো। এ সময় গড় মূল্যসূচক নির্ধারণ হয়েছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৩৪১ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কম। খবর চিজ রিপোর্টার, এগ্রিল্যান্ড ও ইডেইরি নিউজ।
ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুগ্ধমূল্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির গড় মূল্য নেমেছে টনপ্রতি ৩ হাজার ১৬১ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিবিহীন গুঁড়া দুধ। বছরের শেষ নিলামে পণ্যটির গড় মূল্য নির্ধারণ হয়েছে টনপ্রতি ২ হাজার ৪৩১ ডলার, যা আগের নিলামের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম।
সাম্প্রতিক জিডিটি নিলামের ফলাফল বাজার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি নিম্নমুখী বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ড স্টক এক্সচেঞ্জের ডেইরি ইনসাইটস বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিনা আলভারাদো। তার মতে, বৈশ্বিক দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বাড়াই এ দরপতনের মূল কারণ।
ক্রিস্টিনা আলভারাদো বলেন, ‘মৌসুমি কারণে বছরের শেষ দিকে সাধারণত দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এবার বিশ্বের একাধিক প্রধান উৎপাদন অঞ্চলে দুধের ঊর্ধ্বমুখী সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে দুগ্ধজাত পণ্যের।’
অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যে সর্বশেষ জিডিটি নিলামে চেডারের দাম ছিল তুলনামূলক স্থিতিশীল। টনপ্রতি মূল্য ছিল ৪ হাজার ৬৪৬ ডলার। মোজারেলার গড় দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি টন ৩ হাজার ৩৯৫ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
জিডিটিতে মাখন ও অ্যানহাইড্রাস মিল্কফ্যাটের দাম কমেছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৫ ও ৫ দশমিক ২ শতাংশ। পণ্যগুলোর গড় মূল্য নির্ধারণ হয়েছে যথাক্রমে টনপ্রতি ৫ হাজার ১২ ও ৫ হাজার ৬০২ ডলারে।
রাবোব্যাংকের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ডেইরি কোয়ার্টারলি’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকজুড়ে বাজার ধীরগতির ছিল এবং চতুর্থ প্রান্তিকে এসে দরপতন আরো তীব্র হয়েছে। অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে দুধ উৎপাদন ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দুধ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং নিউজিল্যান্ডে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কৃষকরা নতুন ‘মিল্ক সলিডস’ উৎপাদন রেকর্ড গড়েছেন।
রাবোব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পর্যাপ্ত দুধ সরবরাহ ও রফতানিযোগ্য উদ্বৃত্তের কারণে বৈশ্বিক দুগ্ধজাত পণ্যের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
জিডিটির সর্বশেষ নিলামে ল্যাকটোজের দাম বেড়েছে আগের নিলামের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময় পণ্যটির গড় মূল্য নির্ধারণ হয়েছে টনপ্রতি ১ হাজার ৪৩০ ডলারে।